ট্রাম্পের শুল্ক বাধা এড়াতে আগাম উদ্যোগ ভারতের

মোটরসাইকেল আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে এনেছে ভারত।

মোটরসাইকেল আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে এনেছে ভারত। গত সপ্তাহে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, ১ হাজার ৬০০ সিসির বড় ইঞ্জিনযুক্ত বাইকের শুল্ক ৫০ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশ করা হয়েছে। একইভাবে ছোট মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে। মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রভাব এড়াতে এ পদক্ষেপ নেয় ভারত। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সংশ্লিষ্ট অনেক উদ্বেগ। খবর বিবিসি।

প্রতিবেদন অনুসারে, দেশের বাজারে মার্কিন মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড হার্লে ডেভিডসনের সহজে প্রবেশ করতে ভারত এ পদক্ষেপ নেয়। সাধারণত উচ্চ আমদানি শুল্কের কারণে এসব বাইকের দাম অনেক বেশি হয়, যা বিক্রিতে প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে ভারত সরকার আশা করছে, এ সিদ্ধান্ত নতুন শুল্কের ঝুঁকি এড়াতে সহায়তা করবে।

অবশ্য ডোনাল্ড ট্রাম্প আরো বড় বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নিতে পারেন বলে উদ্বেগ রয়েছে দেশটিতে। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট এরই মধ্যে ভারতীয় বাণিজ্যনীতির সমালোচনা করেছেন। কানাডা ও মেক্সিকোর মতো বড় বাণিজ্য অংশীদারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছেন, যদিও পরে সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। তবে ভারতের ধারণা, শুল্ক কর্তনের মাধ্যমে তারা আগেই উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো ভারতের এমন সিদ্ধান্তে ট্রাম্প সরকারের প্রতিক্রিয়া কী হবে?

দিল্লিভিত্তিক থিংক ট্যাংক গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (জিটিআরআই) প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, ‘কানাডা ও মেক্সিকো আসলে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বাহু বা অঙ্গ। যদি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন, তাহলে সহজেই ভারতের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নিতে পারেন ট্রাম্প।’

২০১৭-২১ সালের প্রথম মেয়াদে ভারতীয় শুল্ক নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হার্লে ডেভিডসনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ককে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে সমালোচনা করেছিলেন তখন। এছাড়া ভারতকে ‘শুল্করাজ’ এবং বাণিজ্য সম্পর্কের ‘বড় অপব্যবহারকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।

ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে আমদানির তুলনায় বেশি রফতানি করে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম দেশটি। ২০২৩ সালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ১৯ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছে। ২০১৮ সালের পর ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রফতানি ৪০ শতাংশ বেড়ে ১২ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে ভারতে মার্কিন রফতানি ছিল ৭ হাজার কোটি ডলার।

বাইক ছাড়াও মার্কিন স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড ইনস্টলেশন সরঞ্জামের ওপর আমদানি শুল্ক উঠিয়ে নিয়েছে ভারত। শুল্ক কমিয়েছে এমন পণ্যের মধ্যে আরো রয়েছে, সিনথেটিক ফ্লেভারিং এসেন্সেস। এতে শুল্ক ১০০ শতাংশ থেকে নেমেছে ২০ শতাংশে। গত বছর ভারতে ২ কোটি ১০ লাখ ডলারের এ ধরনের পণ্য রফতানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মাছের খাদ্যে ব্যবহৃত ফিশ হাইড্রোলিসেটের শুল্কও ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ হয়েছে। এখান থেকে যুক্তরাষ্ট্র আয় করে ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

২০২৩ সালে ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান রফতানির মধ্যে ছিল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), কয়লা, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বৈজ্ঞানিক যন্ত্র, স্ক্র্যাপ ধাতু, টার্বোজেট, কম্পিউটার ও আখরোট। এর মধ্যে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের রফতানি মূল্য ছিল ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার।

ভারতের শুল্ক হ্রাসের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অজয় শ্রীবাস্তব। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প ভারতের শুল্কনীতির সমালোচনা করেছেন। এ অবস্থায় সর্বশেষ শুল্ক হ্রাস একটি নীতিগত পরিবর্তনের সংকেত দেয়, যা বিভিন্ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি বাড়াতে পারে।’

আরও